রমজান মাসে মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, রমজানের দ্বিতীয় দশকে ফিতরা দিলে তা আদায় হবে কি না এবং ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব হয়।
ইসলামি আইনবিশারদদের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগে রমজানের শুরু থেকে বা এমনকি রমজানের আগেও ফিতরা আদায় করা জায়েজ। তাই রমজানের দ্বিতীয় দশকে ফিতরা দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।
তবে যেহেতু ফিতরা ঈদুল ফিতরের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সদকা, তাই ঈদের দিন বা রমজানের শেষ দিকে ফিতরা আদায় করা উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন অনেক আলেম। নবীজি (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম সাধারণত ঈদের দিন বা ঈদের এক-দুদিন আগে ফিতরা আদায় করতেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ১৫০৯)
আরও একটি বর্ণনায় নাফে (রহ.) থেকে জানা যায়, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের এক-দুদিন আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৬)
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। নেসাব বলতে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসাপণ্য বোঝানো হয়।
এই নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন। তবে বসবাসের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এ হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না।
যার ওপর জাকাত ওয়াজিব, তার ওপর সদকাতুল ফিতরও ওয়াজিব। তবে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের ওপর জাকাত ওয়াজিব না হলেও নির্দিষ্ট সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী তাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব হতে পারে।
সিএ/এমআর


