ইসলামী সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত—নারী নিজে থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক এই রীতিকে ধর্মীয় বিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করলে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে আসে।
ইসলামী শিক্ষায় নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ এবং সুন্নাহসম্মত আচরণ হিসেবে স্বীকৃত। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা আ.-এর জীবনের একটি ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মাদইয়ানে অবস্থানকালে এক সৎ ব্যক্তি তার কন্যার পক্ষ থেকে হযরত মূসা আ.-কে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
কুরআনে বলা হয়েছে—তিনি বললেন, আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই। (সুরা কাসাস ২৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, নারীর পক্ষ থেকে বা তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ইসলামে গ্রহণযোগ্য।
সুন্নাহর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সা. ও হযরত খাদিজা রা.-এর বিবাহ। হযরত খাদিজা রা. নিজেই রাসুল সা.-এর সততা ও চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এ ছাড়া সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, এক নারী সরাসরি রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে নিজেকে বিবাহের জন্য পেশ করেছিলেন। রাসুল সা. প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও নারীর আচরণকে নিন্দা করেননি এবং অন্য এক সাহাবির সঙ্গে তার বিবাহের ব্যবস্থা করেন। (বুখারি ৫১২০, মুসলিম ১৪১৩)
ফকিহদের সর্বসম্মত মত হলো—নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শরিয়তসম্মত এবং শালীনতার পরিপন্থী নয়। ইসলাম হালাল সম্পর্ক সহজ করতে চায়, অপ্রয়োজনীয় সামাজিক জড়তা সৃষ্টি করতে নয়।
তবে ইসলাম শালীনতা ও সংযমের সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। নারীর আগ্রহ প্রকাশ হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ ও আদবের সঙ্গে, প্রয়োজনে পরিবার বা বিশ্বস্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে।
সিএ/এমআর


