ইসলামের ইতিহাসে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও হজরত খাদিজা (রা.)-এর দাম্পত্য জীবন মানবসভ্যতার এক অনন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। এই সম্পর্ক ভালোবাসা, আস্থা, ত্যাগ, প্রজ্ঞা ও পারস্পরিক সম্মানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নবীজির মহান চরিত্র যেমন এই সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি খাদিজা (রা.)-এর ব্যক্তিত্বও ইতিহাসে স্থায়ী মর্যাদা লাভ করেছে।
বিয়ের আগে খাদিজা (রা.) ছিলেন মক্কার একজন সম্ভ্রান্ত ও সফল ব্যবসায়ী নারী। তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একজন বিশ্বস্ত ও নৈতিক প্রতিনিধি প্রয়োজন ছিল। এই প্রেক্ষাপটে তরুণ মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যবসায়িক লেনদেনে সততা, কর্মচারীদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ ও বিচক্ষণতার কারণে খাদিজা (রা.) তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আস্থা অর্জন করেন।
খাদিজা (রা.) সরাসরি নিজের আগ্রহ প্রকাশ না করে তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নাফিসা বিনতে মুনিয়া (রা.)-এর মাধ্যমে বিষয়টি ইঙ্গিতে তুলে ধরেন। নাফিসা (রা.) নবীজির সঙ্গে আলোচনা করে বিবাহের প্রস্তাবের বিষয়টি এগিয়ে নেন। নবীজি প্রথমে আর্থিক সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করলেও নাফিসার আশ্বাসে বিষয়টি গ্রহণ করেন। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং মোহর নির্ধারিত হয় বিশটি উট।
এই বিবাহ প্রায় ২৫ বছর স্থায়ী হয়। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁদের সংসার ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধে পরিপূর্ণ। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় চার কন্যা—জয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা (রা.) এবং দুই পুত্র—কাসেম ও আব্দুল্লাহ। পাশাপাশি আরও কয়েকজন শিশু এই পরিবারে লালিত-পালিত হন। পরিবার পরিচালনায় খাদিজা (রা.)-এর প্রজ্ঞা ও ধৈর্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নবীজি ও খাদিজা (রা.)-এর দাম্পত্য জীবন শিক্ষা দেয়, সুখী সংসারের ভিত্তি বাহ্যিক সম্পদ নয়; বরং চরিত্র, বিশ্বাস, ত্যাগ ও পারস্পরিক সম্মান। খাদিজা (রা.) ছিলেন নবীজির প্রথম বিশ্বাসস্থাপনকারী ও সবচেয়ে বড় সমর্থক। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণীয়।
সিএ/এমআর


