অনেকেই মনে করেন বেশি পানি পান করলেই শরীর সঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকে। তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। শরীর শুধু পানি গ্রহণ করলেই হয় না, বরং সেই পানি কতটা কার্যকরভাবে ধরে রাখতে এবং ব্যবহার করতে পারে, সেটিই আসল বিষয়।
মানবদেহ একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যা সব সময় পানি, খনিজ লবণ ও কোষীয় চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে কেউ কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করলেও ক্লান্তি বা পানিশূন্যতার লক্ষণে ভুগতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রেশন কেবল পানির ওপর নির্ভর করে না; এতে ইলেকট্রোলাইট যেমন সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব খনিজ লবণ কোষের ভেতরে পানি পৌঁছে দিতে এবং ধরে রাখতে সহায়তা করে।
একসঙ্গে বেশি পানি পান করাও সব সময় উপকারী নয়। দ্রুত অনেক পানি খেলে কিডনি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীর প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। ফলে সেই পানি পুরোপুরি কাজে আসে না।
খাবারের মাধ্যমে পাওয়া পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও প্রাকৃতিক লবণ শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফল ও সবজি, বিশেষ করে কলা, কমলা, শসা বা পালংশাকের মতো খাবার হাইড্রেশন উন্নত করতে সহায়ক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল ও সবজির অভাব কার্যকর হাইড্রেশনকে ব্যাহত করে। অর্থাৎ শুধু পানি নয়, সুষম খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া কিছু পানীয়, যেমন ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহল, মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং শরীর থেকে পানি দ্রুত বের করে দেয়। ফলে এসব পানীয় অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে।
জীবনযাপনের ধরনও হাইড্রেশনে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা, কম চলাফেরা করা এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিপাসা লাগার আগেই নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করা, সঙ্গে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা—এগুলোই সঠিক হাইড্রেশনের মূল চাবিকাঠি।
সিএ/এমআর


