উৎসব-পরবর্তী সময়ে অনেকেই পেটের নানা সমস্যায় ভুগছেন, যার অন্যতম কারণ ফুড পয়জনিং। সাধারণত বাসি বা দূষিত খাবার খাওয়ার ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর সংক্রমণই এর জন্য দায়ী।
সালমোনেলা, ই কোলাই, ক্যামপাইলোব্যাক্টারসহ বিভিন্ন জীবাণুর পাশাপাশি নরোভাইরাস বা পরজীবীর মাধ্যমে খাদ্য দূষণ ঘটে। এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে পেটের সমস্যা শুরু হয়।
খাবার গ্রহণের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া বা আমাশয়ের লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে ফুড পয়জনিং হিসেবে ধরা যায়। সাধারণত এই সমস্যা কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, রক্তযুক্ত মল এবং পেটব্যথা। পাশাপাশি জ্বর, মাথাব্যথা, অরুচি ও দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। তীব্র অবস্থায় পানিশূন্যতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া এবং চেতনা হ্রাসের মতো জটিলতা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে স্যালাইন গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি অল্প পরিমাণে সহজপাচ্য ও পরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
ফুড পয়জনিং এড়াতে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বাসি বা পচা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং গরম করার সময় ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে।
কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখতে হবে এবং খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


