অনেক মানুষের দিনের শুরু হয় গোসল দিয়ে। সকালে গোসল সেরে তারপর নাশতা, অফিস কিংবা দিনের অন্যান্য কাজ শুরু করা দক্ষিণ এশিয়ার বহু মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তবে বিশ্বের সব অঞ্চলে একই রীতি অনুসরণ করা হয় না। পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে আবার দিনের শেষে গোসল করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাই প্রশ্ন ওঠে, শরীরের জন্য আসলে কোন সময় গোসল করা ভালো—সকালে নাকি রাতে? এ বিষয়ে সংস্কৃতি, অভ্যাস ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে সকালে গোসল করার প্রচলন বহু পুরোনো। প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গ্রন্থেও সকালের স্নানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্র ও আয়ুর্বেদ মতে, সকালে গোসল করলে শরীর সতেজ হয় এবং মনও চাঙা হয়ে ওঠে। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, অলসতা কমে এবং দিনের কাজ শুরু করার জন্য শক্তি পাওয়া যায়।
এ ছাড়া গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশগুলোতে ঘাম ও গরম থেকে স্বস্তি পেতেও সকালের গোসল অনেকের কাছে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে দিনের শেষে গোসল করার সংস্কৃতি বেশি প্রচলিত। সারাদিনের কাজ শেষে শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তারা রাতের গোসলকে গুরুত্ব দেন।
চীনা সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, সারাদিনের ধুলোবালি ও ক্লান্তি দূর করতে রাতে গোসল করা ভালো। আবার জাপানে অনেকের ধারণা, রাতে ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করলে শরীরের পেশি শিথিল হয় এবং এতে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
এ ছাড়া দিনভর ঘাম ও ধুলোবালি শরীরে লেগে থাকলে তা নিয়ে বিছানায় যাওয়া অনেকের কাছে অস্বাস্থ্যকর মনে হয়। তাই পরিষ্কার শরীর নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার জন্য রাতের গোসলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
গবেষকদের মতে, সকাল ও রাত—দুই সময়েই গোসলের কিছু উপকারিতা রয়েছে। সকালে গোসল করলে মস্তিষ্ক দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে এবং শরীর সক্রিয় হয়ে যায়, ফলে কাজে মনোযোগ বাড়তে পারে।
অন্যদিকে ঘুমানোর অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোনের নিঃসরণ বাড়তে সাহায্য করে, যা ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোসলের সেরা সময় আসলে নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর। কেউ যদি সকালে সতেজ থাকতে চান, তাহলে সকালের গোসল উপকারী হতে পারে। আবার দিনের ক্লান্তি দূর করে ভালো ঘুমের জন্য রাতের গোসলও একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে।
সিএ/এমআর


