রমজান মাসে ইফতারের সময় খেজুরের পাশাপাশি শরবত পান করা অনেকেরই নিয়মিত অভ্যাস। সাধারণত এসব শরবত তৈরিতে সাদা চিনি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মিষ্টিজাতীয় বিভিন্ন ডেজার্ট তৈরিতেও চিনির ব্যবহার ব্যাপক। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন রয়েছে—ইফতারে চিনি নাকি গুড়ের শরবত বেশি নিরাপদ।
রাজধানীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা এ বিষয়ে বলেন, সাদা চিনি মূলত শরীরকে কেবল ক্যালরি সরবরাহ করে। এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ভিটামিন বা মিনারেল থাকে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি এক চা চামচ সাদা চিনি থেকে প্রায় ২০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত সাদা চিনি গ্রহণ করলে ইনসুলিন রেজিসট্যান্স, পিসিওএস, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিনিজাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পুষ্টিবিদদের মতে, সাদা চিনির তুলনায় আখের গুড় বা খেজুরের গুড় তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প হতে পারে। কারণ গুড়ে সামান্য পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, গুড়ও মূলত এক ধরনের চিনিজাতীয় খাবার হওয়ায় এটি অতিরিক্ত খাওয়াও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কারণ এর গ্লাইসেমিক প্রভাবও তুলনামূলক বেশি।
ইসরাত জাহান প্রিয়ানা বলেন, বিশেষ করে আখের গুড়, খেজুরের গুড় এবং তালের গুড় তুলনামূলক ভালো। তবে বাজারে ভেজাল গুড়ের আশঙ্কা থাকায় কেনার আগে সতর্ক থাকতে হবে। ভেজাল বা রাসায়নিক মিশ্রিত গুড় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এসবের মধ্যে খেজুরের গুড় সাধারণত কম প্রক্রিয়াজাত এবং এতে কিছু খনিজ উপাদান বেশি থাকে। তবে অবশ্যই খাঁটি ও ভেজালমুক্ত গুড় নির্বাচন করা জরুরি।
রমজানে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে তিনি ইফতারে অতিরিক্ত চিনি বা গুড়ের শরবতের পরিবর্তে খেজুর ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া লেবু পানি, পাতলা ফলের জুস, দইয়ের শরবত, ডাবের পানি কিংবা স্যালাইন পান করাও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। এমনকি মিষ্টতার বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া পাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


