বাংলাদেশে বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া খাবার যেন এক ধরনের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভাজা খাবার ছাড়া অনেকের ইফতার যেন অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিনের মতে, ভাজাপোড়া খাবারে সাধারণত ক্যালরি ও লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীরে চর্বি জমে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন এতটা ক্যালরি পোড়ানোর মতো শরীরচর্চা করেন না। বিশেষ করে রমজানে নিয়মিত ব্যায়াম করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।
এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণের কারণেও ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। লবণ শরীরে পানি ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি করে। যখন খাবারের লবণ রক্তে মিশে যায়, তখন রক্তে পানির পরিমাণ বাড়ে এবং সেই পানি দেহের কোষের মাঝামাঝি ফাঁকা স্থানে জমা হতে থাকে। ফলে শরীরে পানি জমে ওজন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ভাজাপোড়া খাবার নিয়মিত খেলে তৃষ্ণা বা পিপাসা বেড়ে যেতে পারে। লবণের কারণে রক্তনালি ও কোষের মাঝামাঝি স্থানে পানি জমা হলেও কোষের ভেতরে পানির পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে শরীরে পানি থাকলেও কোষগুলো পানির অভাবে ভোগে এবং বারবার পিপাসা লাগে।
যদি কেউ পুরো মাসজুড়ে নিয়মিত ভাজাপোড়া খায় এবং ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান না করে, তাহলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পেটের সমস্যাও ভাজাপোড়া খাবারের একটি বড় প্রভাব। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বাড়ে। খাবার খাওয়ার পর বুক জ্বালা বা খাবার গলার দিকে উঠে আসার মতো অনুভূতিও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভ্যাস থাকলে পাকস্থলীতে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে থাকলে তা ধীরে ধীরে চর্বিতে পরিণত হয়। এই চর্বি রক্তে, রক্তনালির প্রাচীরে এবং লিভারের চারপাশে জমা হতে পারে। এর ফলে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং পেটের মেদও বাড়তে থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, বাড়তি ওজন এবং রক্তনালিতে জমে থাকা চর্বি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব সমস্যার কারণে পরবর্তীতে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের মতো জটিল রোগও দেখা দিতে পারে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাজাপোড়া খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে এমন নয়। মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খাওয়া যেতে পারে। শরীর সুস্থ রাখতে ইফতারের সময় ফলমূল, সবজির সালাদ, চিড়া, টক দই বা স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


