ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই দ্রুত প্রস্তুত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। নিয়মিত এ ধরনের ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো জটিলতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সমস্যা দূর করতে সকালে খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া হতে পারে কার্যকর একটি অভ্যাস।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিশমিশে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীর সহজেই এসব উপাদান গ্রহণ করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কিশমিশ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এতে থাকা ফাইবার ও রেচক গুণ অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।
যারা গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমে ভোগেন, তাদের জন্য কিশমিশের পানি উপকারী। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের প্রদাহ হ্রাস করে। কয়েক দিন নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা অনেকটাই কমে আসে।
চিকিৎসকদের মতে, কিশমিশ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে এবং হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। ভেজানো কিশমিশে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় এটি আরও উপকারী।
লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতেও কিশমিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভেজানো কিশমিশের পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করতে সহায়তা করে এবং রক্ত পরিশোধনের প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা বা ওজন কম এমন ব্যক্তিদের জন্য কিশমিশ উপকারী। এতে থাকা গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ শরীরে শক্তি জোগায় এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, কিশমিশে থাকা ক্যাটেটিনস ও পলিফেনল ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং আয়রন হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সহায়ক।
ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ কিশমিশ নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
সিএ/এমআর


