রান্নাঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে আমরা অনেকেই ধরে নিই, পানি ঢাললেই সব ময়লা নিরাপদে সিঙ্ক দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু এই ধারণাই ড্রেন ব্লকের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্ক বন্ধ হয়ে গেলে শুধু বাড়তি খরচই নয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপরও বাড়ে চাপ।
খাবারের উচ্ছিষ্ট, কফির গুঁড়া বা রান্নার তেল—এ ধরনের কিছু সাধারণ অভ্যাস থেকেই সৃষ্টি হয় বড় সমস্যা। তাই কোন জিনিসগুলো কখনোই সিঙ্কে ফেলা উচিত নয়, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
শুকনা ভাত, নুডলস ও পাস্তা পানির সংস্পর্শে ফুলে উঠে পাইপের ভেতরে আটকে যায়। ময়দা পানির সঙ্গে মিশে আঠালো স্তর তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে ড্রেন বন্ধ করে দেয়। মধু অত্যন্ত আঠালো হওয়ায় অন্যান্য ময়লা আটকে রেখে জমাট বাঁধতে পারে।
রান্নার তেল, চর্বি ও গ্রিজ ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং পাইপ বন্ধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে ফল ও সবজির স্টিকার পানিতে গলে না এবং আঠা পাইপের গায়ে লেগে ব্লক তৈরি করে।
তরল মনে হলেও কাস্টার্ড পাইপের ভেতরে প্রলেপ তৈরি করতে পারে। বিষাক্ত রাসায়নিক যেমন রং, থিনার বা শক্ত ক্লিনার পানি শোধনাগারে ঠিকভাবে পরিশোধিত হয় না এবং পরিবেশের ক্ষতি করে।
কফির গুঁড়া পানিতে গিয়ে পরে একত্রে জমে পাইপের বাঁকে আটকে যায়। ডিমের খোসার ধারালো অংশ অন্য ময়লা জড়ো করে ড্রেন বন্ধ করে দেয়।
ভুলবশত তেল বা চর্বি সিঙ্কে চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে গরম পানি ছাড়তে পারেন। সামান্য ডিশওয়াশ লিকুইড ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে ঠান্ডা পানি দিলে তেল দ্রুত জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটেও খাবারের উচ্ছিষ্ট, ওয়েট ওয়াইপ বা স্যানিটারি পণ্য ফেলা উচিত নয়। এতে ভয়াবহ ব্লক তৈরি হতে পারে।
সিএ/এমআর


