এক সময় বাঙালির প্রধান বাহন ছিল সাইকেল। সময়ের পরিবর্তনে এর ব্যবহার কিছুটা কমলেও, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সাইকেলের গুরুত্ব এখনও অটুট। গবেষক ও চিকিৎসকদের মতে, শরীর ও মন সুস্থ রাখার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত সাইক্লিং।
সাইকেল চালানোর সহজাত আনন্দের কথা উল্লেখ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি বলেছিলেন, সাইক্লিংয়ের আনন্দ অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই সাইকেলের সঙ্গে পরিচয় মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক সতেজতা বাড়ায়। শহরের যানজটে সাইকেল সময় বাঁচানোর পাশাপাশি শরীরচর্চার সুযোগও তৈরি করে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দুই বিলিয়নের বেশি সাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা পাঁচ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। জীবিকা, যাতায়াত এবং খেলাধুলার মাধ্যম হিসেবে সাইকেলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সাইক্লিং শরীরের পেশি শক্তিশালী করে, সহনশীলতা বাড়ায় এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরা ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যান, তাদের মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৪১ শতাংশ কমে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বেটার হেলথ চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, সাইক্লিং স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, ক্যান্সার, মানসিক অবসাদ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জেসন গিল বলেন, সাইকেল চালিয়ে কাজে যাওয়ার উপকার অস্বীকার করা যায় না এবং এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক ব্যায়ামের একটি মাধ্যম।
তবে সাইক্লিংয়ের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপদ সাইক্লিংয়ের জন্য হেলমেট, গ্লাভস, সিগন্যাল লাইট ব্যবহার, উজ্জ্বল পোশাক পরা এবং নিয়মিত সাইকেল সার্ভিস করানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিক ভঙ্গিতে না চালালে বা অতিরিক্ত চাপ দিলে ইনজুরির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


