সকালের নাশতায় এক গ্লাস ঠান্ডা কমলার রস অনেকের কাছেই সতেজতার প্রতীক। টক-মিষ্টি স্বাদের এই পানীয়কে সাধারণত ভিটামিন সি–এর প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হয়। তবে নিয়মিত কমলার রস পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েটিশিয়ান দীপালি শর্মা।
কমলার রসে শুধু ভিটামিন সি নয়, রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড, হেসপেরিডিন ও ক্যারোটিনয়েড। এসব উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, প্রদাহ কমায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কমলার রস পান করলে ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়।
ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। হেসপেরিডিন রক্তসঞ্চালন উন্নত করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে। ক্যারোটিনয়েড চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষায় কার্যকর।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পুরো ফলের তুলনায় রসে ফাইবার কম এবং প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে রস পান করলে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিংবা দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন।
ডায়েটিশিয়ানদের মতে, প্রতিদিন অল্প পরিমাণে ও সঠিক সময়ে কমলার রস পান করলে উপকার পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পুরো কমলা ফল খাওয়ার অভ্যাস রাখলে ফাইবারসহ বাড়তি পুষ্টিগুণও পাওয়া যায়।
সিএ/এমআর


