মুলা এমন একটি সবজি, যা কাঁচা ও রান্না—দু’ভাবেই খাওয়া যায়। তবে কোনভাবে খেলে শরীর বেশি উপকার পাবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা ও হজমক্ষমতার ওপর। অনেকেই সালাদ হিসেবে কাঁচা মুলা খান, আবার কেউ রান্না করেই খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রশ্ন হলো—রান্না করলে কি মুলার পুষ্টিগুণ কমে যায়, নাকি কাঁচা খেলেই বেশি উপকার মেলে।
দিল্লির পুষ্টিবিদ শ্রেয়া গোয়েল জানান, মুলা কাঁচা ও রান্না—দু’ভাবেই উপকারী। তবে কীভাবে খাবেন, তা নির্ভর করবে আপনি কেন মুলা খাচ্ছেন এবং আপনার হজমশক্তি কেমন, তার ওপর।
কাঁচা মুলা খাওয়ার উপকারিতা হলো—মুলাতে থাকা ভিটামিন সি তাপের প্রভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কাঁচা অবস্থায় মুলা খেলে এর পুষ্টিগুণ প্রায় পুরোপুরি বজায় থাকে। তেল বা অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে না আসায় এনজাইমগুলো অক্ষত থাকে, যা শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কাঁচা মুলায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
অন্যদিকে কাঁচা মুলা খেলে অনেকের গ্যাস, পেটফাঁপা বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দেয়। এমন ক্ষেত্রে মুলা রান্না করে খাওয়াই ভালো। রান্নার সময় মুলার ফাইবার কিছুটা নরম হয়ে যায় এবং ঝাঁঝালো ভাব কমে আসে, ফলে হজম সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ভাপানো বা হালকা রান্না করা মুলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীর তুলনামূলক সহজে গ্রহণ করতে পারে।
শরীরের চাহিদা অনুযায়ী মুলা খাওয়ার পদ্ধতি নির্বাচন করা যেতে পারে। লিভারের সমস্যা থাকলে খাবারের আগে সালাদে কাঁচা মুলা কুচি করে দেওয়া যেতে পারে বা মুলার রস পান করা যায়। গ্যাস বা হজমের সমস্যা হলে মুলা হালকা ভাপিয়ে পানি ফেলে দিয়ে রান্না করে খাওয়া ভালো। ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য পাতলা করে কাটা কাঁচা মুলায় সামান্য লবণ ও লেবুর রস যোগ করে খাওয়া যেতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কাঁচার বদলে রান্না করা মুলা নিরাপদ। অনেকেই মুলাশাক ফেলে দেন, অথচ মুলার শাকেও পুষ্টিগুণ বেশি থাকে, তাই শাক রান্না করে খাওয়াও উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঁচা হোক বা রান্না—সঠিকভাবে খেলে মুলা হতে পারে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সিএ/এমআর


