স্ট্রোককে সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে ধরা হলেও চিকিৎসকদের মতে শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়া বা রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তপাত হলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা স্ট্রোক নামে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে প্রতি এক লাখ শিশুর মধ্যে গড়ে প্রায় পাঁচজন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মের পরপরই বা পেরিন্যাটাল সময়েও শিশুর স্ট্রোক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি হেমিপ্লেজিক সেরিব্রাল পালসির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে। বড়দের তুলনায় শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট নয়, ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।
শিশুদের মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে একদিকে খিঁচুনি, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, খেতে অসুবিধা, শ্বাস আটকে আসা, শরীরের এক পাশ বেশি নড়াচড়া করা ও অন্য পাশ দুর্বল হয়ে পড়া, বিকাশে দেরি, মৃগী, দৃষ্টিজনিত সমস্যা, ভাষাগত ও বুদ্ধিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের স্ট্রোকের প্রধান কারণ তিনটি—রক্তনালির সমস্যা, হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি এবং রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জন্মগত ত্রুটি, অ্যানিউরিজম, ময়া ময়া রোগ থেকে স্ট্রোক হতে পারে। হৃদ্যন্ত্রে জন্মগত ছিদ্র বা ভাল্ভের সমস্যার কারণে জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে গিয়ে রক্তনালি বন্ধ করতে পারে। আবার রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া বা রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানের ঘাটতির কারণেও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ছাড়া মস্তিষ্কের সংক্রমণ, নিউরোমেটাবলিক রোগ ও জেনেটিক সমস্যাও শিশুদের স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে হৃদ্যন্ত্র পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা ও জেনেটিক পরীক্ষাও করা হতে পারে।
চিকিৎসায় শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যা কমানো নয়, ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
সিএ/এমআর


