অনেকের রান্নাঘরে সরিষার তেল অপরিহার্য উপাদান। এর ঝাঁঝালো সুগন্ধ ও স্বাদ খাবারকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক সরিষার তেলে ভয়ংকর ভেজাল মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল এমনকি ক্ষতিকর আর্জিমন তেল মিশিয়ে লাভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ভেজাল তেল গ্রহণ করলে হৃদরোগ, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতি এমনকি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ঘরে বসেই সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে তেলের মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
প্রথমত, ফ্রিজিং টেস্ট। একটি কাঁচের বোতলে সামান্য সরিষার তেল নিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। খাঁটি সরিষার তেল সাধারণত জমে না এবং তরল অবস্থায় থাকে। যদি সাদা আস্তরণ দেখা যায় বা তেল ঘন হয়ে যায়, তবে তাতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা বেশি।
দ্বিতীয়ত, হাতের তালুতে ঘষে পরীক্ষা করা যায়। অল্প তেল হাতে নিয়ে ঘষলে খাঁটি তেলের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া যাবে এবং কোনো রঙের দাগ থাকবে না। কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।
তৃতীয়ত, নাইট্রিক এসিড পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভুল বলে ধরা হয়। তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা নাইট্রিক এসিড মিশালে যদি রঙের পরিবর্তন না হয়, তবে তেল বিশুদ্ধ। লাল বা কমলা রঙ ধারণ করলে আর্জিমন তেলের উপস্থিতি বোঝায়।
চতুর্থত, তেল গরম করার সময় ধোঁয়ার আচরণ লক্ষ্য করা যেতে পারে। খাঁটি সরিষার তেল ধীরে ধোঁয়া ছাড়ে এবং ঝাঁঝ বজায় থাকে। খুব দ্রুত সাদা ধোঁয়া উঠলে ভেজালের আশঙ্কা থাকে।
পঞ্চমত, রঙের গভীরতা দেখা জরুরি। খাঁটি সরিষার তেল সাধারণত গাঢ় সোনালি বা লালচে হলুদ হয়। অতিরিক্ত হালকা ও স্বচ্ছ রঙ হলে তাতে মিনারেল অয়েল মেশানোর সম্ভাবনা থাকে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খোলা বা অতিরিক্ত সস্তা তেল এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


