মাছের তেল বা ফিশ অয়েল মূলত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা একটি প্রয়োজনীয় অসম্পৃক্ত চর্বি। এই উপাদান মানবদেহ নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না, তাই নিয়মিত খাবারের মাধ্যমেই তা গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যামন, ম্যাকারেল, সার্ডিন, হেরিং, টুনা ও ইলিশ মাছ ওমেগা-৩ এর উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ওমেগা-৩ গ্রহণ শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এটি রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ওমেগা-৩ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সহায়তা করে এবং স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। শিশুদের মস্তিষ্ক ও দৃষ্টিশক্তির বিকাশেও এই উপাদান গুরুত্বপূর্ণ।
চোখের সুস্থতায় DHA নামের একটি ওমেগা-৩ উপাদান বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। এটি চোখের রেটিনার গঠন ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
ওমেগা-৩ শরীরের প্রদাহ কমাতেও কার্যকর। ফলে আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথার মতো সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত গ্রহণে উপকার পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি শরীরের সামগ্রিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতেও সহায়তা করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ওমেগা-৩ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ডিপ্রেশন ও উদ্বেগের উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুলের যত্নেও ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, প্রদাহ কমায় এবং ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি চুল পড়া কমাতে ও নতুন চুল গজাতে সহায়ক হতে পারে।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্যও ওমেগা-৩ বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। মায়ের খাদ্যতালিকায় এই উপাদান থাকলে ভ্রূণ ও শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ওমেগা-৩ উপকারী। এটি হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে হাড় মজবুত থাকে এবং অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমে।
সিএ/এমআর


