খাবার শুধু শরীরের জ্বালানি নয়, রোগ প্রতিরোধেরও অন্যতম হাতিয়ার। শীতকালে সর্দি, কাশি, জ্বরসহ নানা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন সবজি, ফল ও পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
টমেটো ভিটামিন এ, সি, কে, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখের সুরক্ষায় সহায়তা করে। টমেটোর ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর পাশাপাশি কোলাজেন উৎপাদনের মাধ্যমে ত্বকের সুরক্ষা দেয়।
ব্রকলি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর একটি সবজি, যা মেটাবলিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করে। এতে থাকা সালফোরাফেন নামের সালফারসমৃদ্ধ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরের ডিটক্সিফাইং ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। পাশাপাশি এর অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি গুণ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
শীতকালীন ফল যেমন জলপাই, পেয়ারা, বরই ও কমলা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টে ভরপুর। এসব ফল রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়ক এবং ফ্লু, হাঁপানি, কোলন ক্যানসার ও বাতের ব্যথা উপশমে উপকার করে। ফলের ভিটামিন সি শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি জোগায়। কমলায় থাকা বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ইমিউনিটি ও হজমশক্তি বাড়ায়, সর্দি–কাশির উপসর্গ কমাতে সহায়তা করে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। জলপাইয়ে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সামুদ্রিক খাবার, মাংস, ডিমের কুসুম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম এবং শিমের বীজ জিংকের ভালো উৎস। জিংক পেশিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। এসব খাবারে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, সেলেনিয়াম ও আয়োডিনও পাওয়া যায়, যা থাইরয়েড গ্রন্থি ও হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়তা করে।
শীতে চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ হতে পারে স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এতে থাকা অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং ঠান্ডা লাগা বা ফ্লুর লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি শরীর উষ্ণ রাখে ও প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন টক দই, মিসো, কেফির, সাউরক্রাউট, কিমচি, পনির ও ভিনেগার ছাড়া আচার নিয়মিত খেলে পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ে। এতে খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ ও হজমপ্রক্রিয়া উন্নত হয়, যা সামগ্রিকভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম, ওজন অনুযায়ী পানি পান এবং শীতকালে বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
সিএ/এমআর


