সন্ধ্যায় বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে হইহুল্লোড় চলছে। কেউ বলছে নতুন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার কথা, কেউ লং ড্রাইভের প্রস্তাব দিচ্ছে। আর আপনি? নিজের ঘরে বসে বই পড়া বা প্রিয় সিরিজ দেখা ভালো লাগছে। অনেক সময় আপনি অজুহাত দেখিয়ে এই সব প্ল্যান এড়িয়ে যেতে চান। কারণ আপনার কাছে নিজের ঘরই সবচেয়ে আরামদায়ক স্থান।
যাঁরা ঘরে থাকতে ভালোবাসেন, তাদের মনস্তত্ত্ব সাধারণের তুলনায় অনেক গভীর এবং চিন্তাশীল। ইংরেজিতে এদের বলা হয় ‘হোমবডি’। হোমবডিরা সাধারণত বাইরের জগৎকে ভয় পান না, বরং নিজেদের নিরাপদ স্থান ও নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁরা একা থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, আর এই স্বাচ্ছন্দ্যই তাদের মানসিক শান্তি দেয়।
একাকিত্ব ও নির্জনতার মধ্যে তফাৎ আছে। একাকিত্ব মানে আপনি মানুষের সঙ্গ চান, কিন্তু সেটা পান না। এটি বেদনাদায়ক। অন্যদিকে, নির্জনতা মানে ইচ্ছা করেই একা থাকা এবং সেটি উপভোগ করা। হোমবডিরা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্জনতা পছন্দ করেন এবং তা তাদের শান্তি ও স্বস্তি দেয়।
বহির্মুখী মানুষেরা অন্যের সঙ্গে মিশলে শক্তি পান, কিন্তু হোমবডিরা তার উল্টো। তারা চাঙা হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ‘নিরাপদ স্থান’ প্রয়োজন, যা মনোবিজ্ঞানে ‘রেস্টোরেটিভ নিশ’ বা বলদায়ী স্থানবিশেষ নামে পরিচিত। এছাড়া, হোমবডিরা ফোমোর (Fear of Missing Out) বিপরীতে ‘জোমো’ বা জয় অব মিসিং আউট উপভোগ করেন। তারা জেনেশুনে বাইরের আড্ডা মিস করে, কিন্তু তাতেই সুখ পান।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তারা সাধারণত ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলেন। তাদের সুখের জন্য খুব বেশি মানুষের প্রয়োজন হয় না। নিজের চিন্তা ও কাজ নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। তাই আপনার ঘরে থাকার স্বভাবটি হয়তো উচ্চ বুদ্ধিমত্তারই পরিচায়ক।
মনোবিজ্ঞানীরা হোমবডিদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন কারণ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। হোমবডিরা একা থাকলে মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড চালু হয়, যা সৃজনশীলতা বাড়ায়। তারা আত্মসচেতন হয় এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক গভীর হয়, যদিও বন্ধু সংখ্যা কম থাকে।
ফলে ঘরকুনো মানেই হতাশ ব্যক্তি নয়। শুক্রবার পার্টি না গিয়ে ঘরে বসে সময় কাটানো বা বই পড়া মানসিক শান্তির জন্য একটি সুস্থ সিদ্ধান্ত। সমাজ যা-ই বলুক, নিজের ভালো লাগাটাকে গুরুত্ব দিন। দিনের শেষে আপনার ঘরই আসল দুর্গ।
সিএ/এমআর


