প্রায়ই শোনা যায়, কেউ বাথরুমে স্ট্রোক করেছেন। বিষয়টি কাকতালীয় মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক কারণ রয়েছে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তনালির প্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বা কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে স্ট্রোক হয়। রক্তচাপে বড় ধরনের ওঠানামা হলে রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং তখন স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান জানান, বাথরুমে থাকার সময় অনেকের রক্তচাপে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দেয়। এ কারণেই অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঘটনা বাথরুমেই ঘটে।
বাথরুমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। এতে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। একইভাবে প্রস্রাব বা পায়খানা করার সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হলেও রক্তচাপ বাড়ে।
দীর্ঘ সময় বাথরুমে বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপের তারতম্য হতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় পজিশনাল ব্লাড প্রেসার চেঞ্জ। আবার ঘুম ভাঙার পরপরই দ্রুত বাথরুমে গেলে শরীর তখনো ঘুমের প্রভাব থেকে পুরোপুরি বের হতে পারে না। ঘুম থেকে জাগার সময় স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপে পরিবর্তন হয়, আর সেই সময় তাড়াহুড়ো করে বাথরুমে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

তবে এসব পরিস্থিতি সবার জন্য সমানভাবে বিপজ্জনক নয়। যাঁদের আগে থেকেই স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই এসব অবস্থায় স্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে ক্ষতিকর চর্বির আধিক্য, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং পারিবারিক ইতিহাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্ট্রোক একটি মারাত্মক রোগ, যা প্রাণনাশের কারণও হতে পারে। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক শ্রম এবং জীবনযাপনের সঠিক নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা রক্তে খারাপ চর্বি থাকলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
যাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের বাথরুম ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করা উচিত নয়। পানি ঠান্ডা হলে প্রথমে পা ভেজাতে হবে, এরপর ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশে পানি দিতে হবে এবং সবশেষে মাথায় পানি দেওয়া নিরাপদ।
বাথরুমে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রস্রাব বা পায়খানার সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হলে কিংবা দীর্ঘ সময় লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে বাথরুমে না গিয়ে আগে ধীরে উঠে বসা, তারপর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে শুরু করা নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত।
সিএ/এমআর


