দেশের তৈরি পোশাক খাতের মূল কাঁচামাল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়টি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে পোশাক খাতের উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতায়। ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে সুতা আমদানিকে রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতের প্রেক্ষাপটে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের পোশাক খাত দেশের রফতানি আয়বহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; দেশের ৮৪ শতাংশ রফতানি আয় আসে এই খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে এই খাতে ব্যবহৃত সুতার একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানিতে গত দুই অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ফলে স্থানীয় সুতার বিক্রি কমেছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা ৬০ শতাংশের নিচে নেমেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের আলোকে এনবিআরের কাছে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা এটিকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সুতা আমদানির স্বাভাবিক চিত্রকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে পুরো পোশাক খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকারি মধ্যস্থতায় বস্ত্র ও পোশাক উভয় পক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ভারতের সুতা আমদানিতে এন্টি ডাম্পিং শুল্ক না বসিয়ে বন্ড সুবিধা বাতিল করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এছাড়া উদ্যোক্তারা মনে করেন, দেশি বস্ত্র কারখানাগুলো গুণগত মানের সুতা সরবরাহে সক্ষম নয়, তাই নীতি সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
সিএ/এসএ


