দেশজুড়ে জেঁকে বসা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবনের পাশাপাশি চরম সংকটে পড়েছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাত। অতিরিক্ত ঠান্ডায় গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে খুরা রোগ, নিউমোনিয়া ও পিপিআর-এর মতো প্রাণঘাতী রোগের প্রাদুর্ভাব। ফলে প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হাইমচরের বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে গরু ও ছাগল দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। খামারিদের ভাষ্যমতে, শীতের কারণে পশুরা খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দুগ্ধ উৎপাদনে।

উপজেলার তৃণমূল খামারি ইলিয়াস ও সম্রাট সৈকত জানান, ঠান্ডার কারণে বাছুরদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি। এছাড়া মুখ ও পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া ‘খুরা রোগ’ (FMD) এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে ‘পিপিআর’ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। ওষুধের বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে খামারিরা এখন দিশেহারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাইমচরে বর্তমানে নিবন্ধিত গরুর খামার রয়েছে ১৬টি এবং মুরগির খামার ১০টি। পুরো উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৩৫টি গরু, ২০ হাজার ৬০৭টি ছাগল, ৩২টি মহিষ এবং ২৮টি ভেড়া রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, উপজেলায় দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার মেট্রিক টন থাকলেও অর্জন হয়েছে ২০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। একইভাবে মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ১০ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। তবে বর্তমান শৈত্যপ্রবাহ এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইমচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মানিক বিশ্বাস জানিয়েছেন, শীতকালীন রোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তিনি খামারিদের সচেতন করতে উঠান বৈঠক ও নিয়মিত পরামর্শ সেবা জোরদার করার কথা উল্লেখ করেন। কোনো পশু অসুস্থ হলে দ্রুত নিকটস্থ পশু হাসপাতালে যোগাযোগের আহ্বান জানান ওখামারিদের জন্য বিশেষ পরামর্শে বলেন, পশুর ঘর শুকনো রাখতে হবে এবং রাতে জানালা চট বা মোটা পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে মেঝেতে খড় বা শুকনো ঘাসের বিছানা দিতে হবে। পশুকে কুসুম গরম পানি পান করাতে হবে এবং খাবারে পর্যাপ্ত খনিজ মিশ্রণ নিশ্চিত করতে হবে। সংক্রমণের আগেই খুরা রোগ ও পিপিআর-এর টিকা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিকূল এই আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে পশুর অকাল মৃত্যু ও ওজন কমে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন উপজেলার সাধারণ খামারিরা।
শিমুল অধিকারী সুমন,চাঁদপুর প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


