লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজনদের আটককে কেন্দ্র করে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম তার অটোরিকশা সড়কের পাশে রেখে ইফতার করতে যান। এ সময় অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। অটোরিকশাটি উদ্ধার হলেও ব্যাটারিগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আটকদের বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য মারধর করা হয়।
রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ব্যাটারি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে রায়পুর থানার পুলিশ সদস্য মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কের রায়পুরের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে এবং অগ্নিসংযোগ করে প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।
অটোরিকশা চালক শাহ আলম বলেন, ‘আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটকে রেখেছিলাম। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। তাদেরকে না দেওয়ায় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক জানান, রিকশা চুরির ঘটনায় মালিককে মামলা করতে বলা হলেও তারা অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও আহতের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভোরে দুটি ঘটনার এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। তবে মোট আসামির সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
সিএ/এএ


