মানুষকে আল্লাহ তাআলা স্বভাবগতভাবেই দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি মানসিক দুর্বলতাও মানুষের জীবনের একটি বাস্তবতা। দুঃখ, উদ্বেগ, সংকট কিংবা অনিশ্চয়তার মুহূর্তে মানুষ সহজেই ভেঙে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে আত্মিক শক্তি অর্জন এবং অন্তরের প্রশান্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ইসলামে আল্লাহর জিকিরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহর স্মরণ মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং তাকে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে সহায়তা করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত হয়—জেনে রাখো! আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রা‘দ: ২৮)
হাদিসে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কয়েকটি জিকিরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষভাবে চারটি জিকিরকে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন বলা হয়েছে। এগুলো হলো—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।
সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিকির চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। এগুলোর যেকোনোটি দিয়ে জিকির শুরু করা যেতে পারে। (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)
এই চারটি জিকির একসঙ্গে এভাবেও পাঠ করা যায়—‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার’ পাঠ করা আমার কাছে দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৫)
হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, একদল দরিদ্র সাহাবি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করেন যে, ধনী সাহাবিরা দান-সদকার মাধ্যমে বেশি সওয়াব অর্জন করছেন, অথচ তাদের সেই সামর্থ্য নেই। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের এমন একটি আমলের কথা শেখান, যা নিয়মিত পালন করলে তারা নেকির ক্ষেত্রে অন্যদের সমকক্ষ হতে পারবেন।
আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, প্রতি ফরজ নামাজের পর আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পাঠ করলে মহান সওয়াব অর্জন করা যায়। (সুনানে ইবনে মাজা: ৯২৭)
ইসলামী শিক্ষায় জিকিরকে কেবল ইবাদত হিসেবেই নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি, মানসিক দৃঢ়তা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিয়মিত জিকির মানুষের অন্তরকে শক্তিশালী করে, উদ্বেগ কমায় এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


