জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ইসলাম প্রকৃতি ও পরিবেশকে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে এবং পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকে মানুষের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। কোরআন-হাদিসে পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জীবজগতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রথমত, বৃক্ষরোপণকে ইসলাম চলমান সওয়াবের কাজ হিসেবে উৎসাহিত করেছে। একটি গাছ মানুষের খাদ্য, ছায়া কিংবা প্রাণীকুলের উপকারে এলে তার প্রতিদান গাছ রোপণকারীর আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। এ বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তটিও এসে উপস্থিত হয় এবং তোমাদের কারও হাতে একটি গাছের চারা থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯০২)
দ্বিতীয়ত, বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটা এবং বন ধ্বংস করাকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, যুদ্ধকালেও ফলদ গাছ ও শস্যক্ষেত ধ্বংস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে নবীজি (সা.) অপ্রয়োজনে ছায়াদানকারী গাছ কাটার বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
তৃতীয়ত, পানি সংরক্ষণ ও অপচয় রোধ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোরআনে অপচয়কারীদের নিন্দা করা হয়েছে। এমনকি প্রবহমান নদীর তীরেও অজু করার সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘প্রবহমান নদীর তীরে বসেও যদি তুমি অজু করো, তবু অপচয় করো না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৫)
চতুর্থত, ইসলাম প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিয়েছে। পানি, চারণভূমি ও জ্বালানির মতো মৌলিক সম্পদকে মানুষের যৌথ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানরা তিনটি বিষয়ে সমান অংশীদার: পানি, চারণভূমি ও আগুন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৭৭)
পঞ্চমত, জনসমাগমস্থল, রাস্তা, পানির উৎস এবং বিশ্রামস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াকেও ঈমানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ ও অকারণে প্রাণী হত্যা থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ধ্বংস, বন উজাড়, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহারের মতো আধুনিক সংকটগুলো মানুষের দায়িত্বহীন আচরণের ফল। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৪১)
ইসলামের এসব নির্দেশনা অনুসরণ করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সহজ হবে।
সিএ/এমআর


