স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েডচালিত ডিভাইসগুলোতে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো স্মার্টফোনে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করলে তা শুধু ডিভাইসের কর্মক্ষমতাই কমায় না, বরং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, এমনকি ব্যাংকিং তথ্যও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই ফোনের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
ফোনের অস্বাভাবিক আচরণ
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ হলো ডিভাইসের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন। ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই যদি ফোন থেকে বার্তা পাঠানো হয়, কল করা হয় বা বিভিন্ন অ্যাপ নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়, তাহলে এটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। এছাড়া বারবার পপআপ বিজ্ঞাপন দেখা দেওয়া কিংবা অচেনা অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যাওয়াও ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
অননুমোদিত লগইন বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল বা অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নোটিফিকেশন, অচেনা স্থান থেকে লগইন অ্যালার্ট কিংবা ব্যবহারকারীর অজান্তে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা তথ্য চুরির লক্ষণ হতে পারে।
হঠাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
ম্যালওয়্যার আক্রান্ত অনেক অ্যাপ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে দূরবর্তী সার্ভারে পাঠায়। ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই মোবাইল ডাটা ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। যদি স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় হঠাৎ ইন্টারনেট খরচ বৃদ্ধি পায়, তাহলে ডিভাইসটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
দ্রুত ব্যাটারি শেষ হওয়া ও অতিরিক্ত গরম হওয়া
কোনো ভারী অ্যাপ ব্যবহার না করেও যদি ফোন দ্রুত চার্জ হারাতে থাকে অথবা অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যায়, তাহলে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর সফটওয়্যার সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সফটওয়্যার ডিভাইসের প্রসেসর ও মেমোরি ব্যবহার করে চলতে থাকে, যার প্রভাব ব্যাটারির ওপর পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ফোন সেফ মোডে চালু করে সম্প্রতি ইনস্টল করা অ্যাপগুলো পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজন হলে অচেনা বা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি অ্যাপগুলোর অনুমতি পর্যালোচনা করা, গুগলের নিরাপত্তা ফিচার সক্রিয় রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করাও জরুরি।
তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, গুগল প্লে স্টোর ছাড়া অন্য কোনো অচেনা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করতে এবং ইমেইল বা বার্তায় পাওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে। শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও বাড়ানো সম্ভব।
যদি কোনো ব্যবহারকারী নিশ্চিত হন যে তার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে, তাহলে দ্রুত সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


