ইসলামের ইতিহাসে হিজরত একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তবে মদিনায় হিজরতের সিদ্ধান্ত একদিনে আসেনি। দীর্ঘ সময়ের দাওয়াতি সংগ্রাম, নির্যাতন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এর পটভূমি তৈরি হয়েছিল।
নবুয়ত লাভের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রথম তিন বছর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেন। এই সময় তিনি মূলত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও বিশ্বস্ত পরিচিতদের মধ্যে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেন। তৎকালীন মক্কার কট্টর পৌত্তলিক সমাজে সরাসরি প্রকাশ্য আহ্বান জানালে ইসলাম শুরুর দিকেই কঠিন বাধার মুখে পড়তে পারত।
এই গোপন দাওয়াতের সময়েই প্রায় ৪০ জন মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। এতে নবগঠিত মুসলিম সমাজ একটি প্রাথমিক ভিত্তি লাভ করে। পরে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) প্রকাশ্যে মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতে শুরু করেন।
নিজ গোত্রের লোকদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি ইসলামের বার্তা তুলে ধরেন। কিন্তু অধিকাংশই তা প্রত্যাখ্যান করে। বিশেষ করে চাচা আবু লাহাব প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে সাফা পাহাড়ে দেওয়া আহ্বানের সময়ও তিনি একইভাবে বাধা দেন।
ইসলামের প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। অসহায় নারী, পুরুষ ও দাসদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ইসলামের প্রথম নারী শহীদ হজরত সুমাইয়া (রা.) এই নির্যাতনেরই শিকার হন।
ক্রমবর্ধমান নিপীড়নের মুখে মুসলমানদের জন্য মক্কায় অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখনও তাদের আত্মরক্ষার মতো রাজনৈতিক বা সামরিক শক্তি গড়ে ওঠেনি। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.) সাহাবিদের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে হাবাশায় হিজরতের নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, হাবাশার শাসক ন্যায়পরায়ণ এবং সেখানে কারও ওপর জুলুম করা হয় না। এই নির্দেশনার মধ্য দিয়েই ইতিহাসে ‘হাবাশার প্রথম হিজরত’ নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীতে মদিনায় মহাহিজরতের পথ প্রশস্ত করে।
সিএ/এমআর


