ডাইনোসর যুগের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি হিসেবে পরিচিত টিরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। বিশাল দেহ, শক্তিশালী চোয়াল এবং ভয়ংকর শিকারি স্বভাবের জন্য পরিচিত এই প্রাণীর একটি বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয় ছিল—এর অস্বাভাবিক ছোট হাত। বহু বছর ধরে এ নিয়ে নানা তত্ত্ব প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজ এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির গবেষকদের পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, টি-রেক্সের হাত ছোট হওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল এর মাথা ও চোয়ালের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও আকার। গবেষণায় ৮২টি থেরোপড বা দুই পায়ে চলা মাংসাশী ডাইনোসর প্রজাতির শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণার ফল অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টি-রেক্সের মাথার খুলি এবং চোয়াল যত বেশি শক্তিশালী ও বড় হয়েছে, হাতের ব্যবহার তত কমে গেছে। ফলে বিবর্তনের ধারায় হাত দুটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনাজনিত বিবর্তন নয়; বরং শিকার ধরার কৌশলে পরিবর্তনের ফল।
বৈজ্ঞানিক সাময়িকী প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, টি-রেক্স তার নখ বা হাতের বদলে শক্তিশালী চোয়ালকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত। বিশাল আকারের শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হাতের তুলনায় চোয়াল ছিল অনেক বেশি কার্যকর। ফলে হাতের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তা ছোট হয়ে আসে।
গবেষণার প্রধান লেখক চার্লি রজার শেরার বলেন, আক্রমণ ও শিকার ধরার ক্ষেত্রে হাতের ভূমিকা একসময় পুরোপুরি মাথা ও চোয়াল দখল করে নেয়। বিশেষ করে বিশালাকৃতির তৃণভোজী ডাইনোসর শিকার করার সময় হাতের চেয়ে শক্তিশালী কামড় অনেক বেশি কার্যকর ছিল।
গবেষকদের মতে, এই গবেষণা শুধু টি-রেক্স নয়, বরং ডাইনোসরদের বিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সিএ/এমআর


