বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটা প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর এখন দলটির বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নেইমারের ফেরার সম্ভাবনা। সমর্থকদের অপেক্ষা—কবে আবার মাঠে দেখা যাবে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাকে।
তবে আপাতত পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। চোট কাটিয়ে ফেরার পথে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনও তাকে নিয়ে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে ব্রাজিল দলের মেডিক্যাল ইউনিট।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ও ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, ডান পায়ের কাফের চোট থেকে পুনর্বাসনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছেন নেইমার। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে হালকা অনুশীলন করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম ঘাসের মাঠে অনুশীলন।
গত ১৭ মে ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পান নেইমার। এরপর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে বাইরে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, তিনি গ্রেড-২ মাংসপেশির চোটে আক্রান্ত হয়েছেন।
যদিও মাঠে ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তবু ব্রাজিল শিবিরে এখনো কিছুটা সতর্কতা রয়েছে। দলীয় মেডিক্যাল স্টাফের ধারণা, নেইমারকে শতভাগ ফিট অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে মূলত নকআউট পর্বে। সে হিসেবে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচ—হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে—তার খেলার সম্ভাবনা সীমিত।
এদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে প্রথম ম্যাচ শেষে কিছুটা চাপেই রয়েছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ড ইতোমধ্যে জয় তুলে নিয়ে এগিয়ে আছে। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইতিবাচক ফল পাওয়া ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য নেইমারের ফেরার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘নেইমার যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দিতে পারবে।’
নেইমারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তার ফুটবল দক্ষতার জন্যই তাকে দলে রাখিনি, তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বও দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্রাজিল শিবিরের আশা, সঠিক সময়ে নেইমারকে ফিরে পেলে দলটি বিশ্বকাপে নিজেদের ছন্দও ফিরে পাবে।
সিএ/এমই


