কোরআন মাজিদ মহান আল্লাহর কালাম এবং মানবজাতির জন্য হেদায়েতের পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি রাসুল (সা.)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিজা। কোরআনের শব্দ ও অর্থ সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নিয়েছেন বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করেন।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর রক্ষক।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ৯)
শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হলেও কোরআনের একটি অক্ষর বা হরকতেও পরিবর্তন হয়নি। এর মর্যাদা ও পবিত্রতার কারণে কোরআন শিক্ষা এবং বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াতের ওপর ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম
কোরআন তেলাওয়াত শুধু পাঠ করার বিষয় নয়; বরং এটি হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
সাহাবায়ে কেরাম কোরআন নাজিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মুখস্থ ও অনুধাবনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। রাসুল (সা.) কোরআন শেখা ও শেখানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২৭)
শুদ্ধ তেলাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা
কোরআনের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষরের সঠিক উচ্চারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরবি ভাষার সূক্ষ্মতার কারণে উচ্চারণে ভুল হলে অর্থ পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে।
তাজবিদের নিয়ম মেনে কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করা হয়। তাজবিদের অর্থ হলো সুন্দর ও সঠিকভাবে পাঠ করা।
আল্লাহ–তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর কোরআনকে তারতিল বা থেমে থেমে, স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে পড়ো।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ৪)
কোরআন তেলাওয়াতের আদব
কোরআন পড়ার সময় মনোযোগ, সম্মান ও আন্তরিকতা বজায় রাখা জরুরি। সুন্দর কণ্ঠে পড়া ভালো হলেও এমনভাবে পড়তে হবে যেন এর গাম্ভীর্য নষ্ট না হয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ–তাআলা কোনো কিছুকে এত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন না, যতটা তিনি একজন সুমধুর-কণ্ঠ নবীর কোরআন তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন, যখন তিনি উচ্চস্বরে কোরআন পাঠ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫৪৪)
আরবি উচ্চারণের মাখরাজ, গুন্নাহ ও তাজবিদের নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করা বিশুদ্ধ তেলাওয়াতের অন্যতম শর্ত।
হজরত উম্মে সালমাকে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসুল (সা.) কীভাবে তেলাওয়াত করতেন? তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি প্রতিটি হরকত স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন এবং প্রতিটি হরফ আলাদাভাবে বোঝা যেত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯২৭)
তাজবিদ শেখার গুরুত্ব
কোরআন ও সুন্নাহ সঠিকভাবে বোঝার জন্য তাজবিদ ও কেরাতের জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) যেভাবে কোরআন পড়েছেন, সেই পদ্ধতি অনুসরণ করাই তাজবিদের মূল উদ্দেশ্য।
আলেমরা বলেন, কোরআন শুদ্ধভাবে শেখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্বের অংশ। এ কারণে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাজবিদ শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুদ্ধ তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষ কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা বুঝতে পারে এবং নিজের জীবনকে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনার সুযোগ পায়।
সিএ/এমআর


