রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। নিহত যুবকের নাম মাফল। তিনি উপজেলার ২ নম্বর কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং বানু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাস ১২ দিন আগে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন মাফল। তবে গত ২৯ মে থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। দীর্ঘদিন খোঁজ না পাওয়ার পর সম্প্রতি তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছায়।
পরিবারের দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মাফল একাধিকবার ফোনে জানিয়েছিলেন যে, তাকে যে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সেই কাজ দেওয়া হয়নি। বরং তাকে যুদ্ধক্ষেত্রসংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
নিহতের চাচা আনিস বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজের আশ্বাস দিয়ে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তাকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানেই ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
নিহতের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের প্রধান দাবি হলো সরকারের সহায়তায় মাফলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। একই দাবি জানিয়েছেন তার বোন আছিয়াও। তিনি বলেন, তার ভাইসহ আরও কয়েকজন বাংলাদেশি একই সময়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং পরে তাদের সামরিক ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, রাশিয়ায় একজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তবে নিহতের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে আনুষ্ঠানিক যাচাই সম্ভব হয়নি।
সিএ/এমআর


