জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও সংশোধন না করা হলে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।
রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। তাদের দাবি, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে তা সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাজেট-পরবর্তী এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত সুবিধাগুলো মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো মডেলের কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি (সোলার সেচ) ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা এসব সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, ডিলার, পরিবেশক, খুচরা ব্যবসায়ী ও ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা নেই, যা কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসআরও অনুযায়ী বর্তমান সুবিধা দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্র ২০ থেকে ২২ শতাংশ অংশকে লক্ষ্য করছে। অথচ বৃহৎ অংশের ব্যবহারকারী এখনো এর বাইরে রয়েছে।
বিএসআরইএর মতে, রেসকো মডেল মূলত বড় শিল্প গ্রাহকদের জন্য কার্যকর হলেও আবাসিক ও কৃষি খাতে এটি কার্যকর নয়। এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌর প্যানেলের শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার হয়েছে—এমন ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে, বাস্তবে অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কর ছাড় হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতেও নতুন কোনো প্রণোদনা নেই। প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও বাজেটে অনুপস্থিত।
তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দেশের ৬৩ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও প্রণোদনা কাঠামোয় তারা প্রত্যক্ষ সুবিধা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে অর্থায়ন, পেমেন্ট সিকিউরিটি ও বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো বিষয়েও নতুন উদ্যোগ নেই।
বিএসআরইএ সতর্ক করে জানায়, বর্তমান এসআরও কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়; বরং সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
অন্যদিকে সব আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান শুল্ক সুবিধা, অন্তত ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে এবং আবাসিক ও কৃষি খাতে কর সুবিধা উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং এটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হওয়া উচিত।
সিএ/এমই


