শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে গোল হজম করে হতাশায় ডুবে যান সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচ শেষে তার মুখে স্পষ্ট ছিল আক্ষেপ। পুরো ম্যাচে আধিপত্য করেও জয় হাতছাড়া হওয়ায় সুইস ডাগআউটে নেমে আসে নীরবতা।
২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ব্রিল এমবোলোর গোলে জয়ের স্বাদ পাওয়া সুইজারল্যান্ড এবারও শুরু করেছিল সেই এমবোলোরই গোলে। ম্যাচের ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় ইউরোপীয় দলটি। কাতার গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা রেমো ফ্রেউলারকে বক্সে ফেলে দিলে রেফারি স্পট কিকের বাঁশি বাজান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সহজেই গোল করেন এমবোলো।
এরপর ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডই ছিল প্রভাব বিস্তারকারী দল। বলের দখলে ৭০ শতাংশ আধিপত্য, ২৬টি শট ও ৭টি লক্ষ্যে রাখা শট—সব পরিসংখ্যানই তাদের পক্ষে কথা বলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে, আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও ধৈর্য ধরে খেলে কাতার। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে নাটকীয়তা। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদের দারুণ ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করেন অধিনায়ক বুয়ালেম খুখি। তার এই গোলেই ১–১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘বি’-এর চিত্র আরও উন্মুক্ত হয়ে গেছে। অন্য ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়ার মধ্যকার ম্যাচও ১–১ গোলে ড্র হয়েছে। ফলে গ্রুপের চার দলেরই পয়েন্ট এখন সমান।
তবে সবচেয়ে স্বস্তিতে কাতারই। আগের তিন বিশ্বকাপে একটিও জয় না পাওয়া দলটি এবার প্রথম ম্যাচেই অন্তত পরাজয় এড়িয়ে প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়েছে।
অন্যদিকে, শক্তি ও পরিসংখ্যানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে থেকেও জয় না পাওয়ার হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। বিশেষ করে গোলরক্ষক আবুনাদা প্রথম গোল হজমের দায় নিলেও পরে কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে ম্যাচে দলকে টিকিয়ে রাখেন।
শেষ মুহূর্তে গোল হজমই ম্যাচের সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যা সুইসদের জন্য হয়ে থাকে চরম হতাশার কারণ।
সিএ/এমই


