দোকান বা ঘর ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াদাতারা প্রায়ই ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। এই অর্থ কখনো অগ্রিম ভাড়া হিসেবে, আবার কখনো জামানত বা সিকিউরিটি মানি হিসেবে নেওয়া হয়। ইসলামী শরিয়তে এই দুই ধরনের অর্থের বিধান ভিন্ন।
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো অর্থ অগ্রিম ভাড়া হিসেবে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে মাসিক ভাড়া থেকে তা সমন্বয় করা হয়, তাহলে সেই অর্থ ভাড়াদাতার মালিকানায় চলে যায়। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই অর্থ ব্যবহার বা বিনিয়োগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, সিকিউরিটি মানি বা জামানতের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এ ধরনের অর্থ ভাড়ার মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়ার শর্তে গ্রহণ করা হয়। ফলে এটি ভাড়াদাতার সম্পদ নয়, বরং তার কাছে আমানত বা নিরাপত্তা হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।
ইসলামী শরিয়তের আলোকে, জামানত হিসেবে নেওয়া অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করা বা ব্যবসায় ব্যবহার করা বৈধ নয়। কারণ এটি ভাড়াদাতার মালিকানাধীন অর্থ নয় এবং বন্ধকস্বরূপ সংরক্ষিত সম্পদ ব্যবহার করা সুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত হতে পারে।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাড়াদাতা যদি অর্থ ব্যবহারের ইচ্ছা রাখেন, তাহলে সেটি জামানত হিসেবে নয়, বরং অগ্রিম ভাড়া হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় সিকিউরিটি মানি আমানত হিসেবেই সংরক্ষণ করতে হবে।
সিএ/এমআর


