সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং জানমাল রক্ষায় আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। বিশেষ করে সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পে উদ্ধার তৎপরতা আরও কার্যকর করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। ফলে নতুন অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বড় ধরনের দুর্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি এবং ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম উদ্ধার অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির আওতায় বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ৭৮ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমৃদ্ধ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, যা দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত সমন্বয় ও জনবল ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে।
দুর্যোগ পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও আরও আধুনিক করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের যেকোনো স্থান থেকে টোল-ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ফোন করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নদীভাঙন পর্যবেক্ষণেও আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত খুদে বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নিয়মিত ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারের মতে, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার সমন্বিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
সূত্র: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট
সিএ/এমআর


