গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব বা বিশেষ কোনো পরিকল্পনার সময় মাসিকের তারিখ পড়ে গেলে অনেক নারী সাময়িকভাবে পিরিয়ড পিছিয়ে দিতে বা বন্ধ রাখতে ওষুধ সেবন করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ডোমেট্রিওসিস, অতিরিক্ত রক্তপাত বা বিশেষ চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনেও কখনও কখনও মাসিক নিয়ন্ত্রণে হরমোন-ভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ওষুধ শরীরে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাসিকের সময় পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
সাময়িকভাবে পিরিয়ড বন্ধ রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। সাধারণত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির প্যাকেটে থাকা প্ল্যাসেবো বা হরমোনবিহীন বড়িগুলো খাওয়ার সময় মাসিক শুরু হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব বড়ি বাদ দিয়ে টানা হরমোন বড়ি সেবন করলে কিছু সময়ের জন্য মাসিক বন্ধ রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া নোরএথিস্টেরন বা প্রজেস্টিনভিত্তিক ওষুধ মাসিক শুরুর সম্ভাব্য সময়ের কয়েক দিন আগে থেকে সেবন করলে সাময়িকভাবে পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়া যায়। ওষুধ বন্ধ করার পর আবার স্বাভাবিকভাবে মাসিক শুরু হয়।
দীর্ঘ সময়ের জন্য মাসিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক ক্ষেত্রে হরমোনযুক্ত ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস বা বিশেষ ধরনের ইনজেকশনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এসব ওষুধ ব্যবহারে সাধারণত গুরুতর জটিলতা দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বা তীব্র মাইগ্রেন থাকলে এসব ওষুধ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ওষুধের মাধ্যমে মাসিক বন্ধ রাখার পর পুনরায় পিরিয়ড শুরু হলে রক্তপাত তুলনামূলক বেশি হতে পারে। আবার কিছু নারীর ক্ষেত্রে ওষুধ চলাকালে অনিয়মিত রক্তপাত বা স্পটিংও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই পিরিয়ড বন্ধ রাখার ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারী, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থাকলে অবশ্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নারীদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-ইতিহাস ভেদে এ ধরনের ওষুধের উপকারিতা ও ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সূত্র: তানজিনা হোসেন, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ
সিএ/এমআর


