রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরের ভেতরে এখন ছোটদের হাতে স্মার্টফোন দেখা খুবই সাধারণ একটি দৃশ্য। একের পর এক ভিডিও বা শর্টস দেখার অভ্যাস অনেক শিশুর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করছেন, এই অভ্যাস শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব ও বয়ঃসন্ধিকালে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের ভাষাগত দক্ষতা ও পড়ার সক্ষমতা হ্রাসের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে যারা তুলনামূলক বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়েছে, তাদের শব্দভান্ডার গঠন এবং শব্দ সঠিকভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা কমে যেতে দেখা গেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক কোরি কারভালহো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, মানুষের মস্তিষ্ক ব্যবহারভেদে নিজেকে গড়ে তোলে। কোনো শিশু যদি দিনের বড় একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করে, তাহলে তার মস্তিষ্কও দ্রুত স্ক্রল করা এবং স্বল্প দৈর্ঘ্যের কনটেন্ট গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে গভীর মনোযোগ, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং দীর্ঘ লেখা পড়ার দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষণাটি ১০ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরীর ওপর ছয় বছর ধরে পরিচালিত হয়। গবেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার কারণে শিশুদের বই পড়ার সময় কমে যাচ্ছে। এর ফলে তারা নতুন শব্দ শেখা, বাক্যগঠন বোঝা এবং কল্পনাশক্তি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘন ঘন নোটিফিকেশন এবং একাধিক ডিজিটাল উদ্দীপনা শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি কাজে মনোযোগী থাকা তাদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।
তবে গবেষকেরা এটিও বলেছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্রভাব নেতিবাচক নয়। নিয়মিত ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে লাজুক শিশুদের জন্য এটি যোগাযোগের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, রাতে শোবার আগে ফোন দূরে রাখা এবং অল্প বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে স্মার্টফোনের পরিবর্তে সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সম্পর্কে বিশ্ব এখনও শেখার পর্যায়ে রয়েছে। তাই শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


