ঢাকার বেসরকারি চাকরিজীবী নিয়াজ মোর্শেদের মুঠোফোনে সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নামে একটি খুদে বার্তা আসে। সেখানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে যাচাই করে দেখা যায়, এটি ছিল প্রতারকদের তৈরি ভুয়া বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই একই ধরনের বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের খুদে বার্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারক চক্র ভুয়া জরিমানার নোটিশ পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে আইন লঙ্ঘনের তথ্য সরাসরি খুদে বার্তায় পাঠানো হয় না। বরং যাচাই-বাছাই শেষে গাড়ির মালিকের ঠিকানায় ডাকযোগে প্রয়োজনীয় নোটিশ পাঠানো হয়। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী এসব নোটিশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরও থাকতে হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সরকারি নম্বর থেকে বার্তা পাঠানো হতে পারে। তবে জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনুমোদিত অনলাইন ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করা হয়।
বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনোই কোনো ব্যক্তির পিন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চায় না। এ ধরনের তথ্য চাওয়া হলে সেটিকে প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলার বিষয়ে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নম্বরে যোগাযোগ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


