জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন তেজগাঁও কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা তন্ময় হালদার ২.৯৮ সিজিপিএ নিয়ে অর্জন করেছেন ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তি। বর্তমানে তিনি ইরাসমাসের হিউম্যান ডিজিজেস মডেলস মরফোলজিক্যাল ফেনোটাইপিং প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।
তন্ময়ের ভাষ্য, প্রচলিত তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে গবেষণা ও ব্যবহারিক কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি। সে কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে সিজিপিএ আশানুরূপ না হলেও তিনি নিজেকে ল্যাবরেটরি গবেষণা, ওয়ার্কশপ ও বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত এডুকেশনাল সিস্টেমে থিওরিটিক্যাল পড়াশোনা আমার খুব একটা ভালো লাগত না। সে জন্যই সিজিপিএ কম এসেছিল। কিন্তু যখন গবেষণার কাজ শুরু করি, তখন বুঝতে পারি যে শুধু রেজাল্ট দিয়ে সবকিছু নির্ধারিত হয় না। জানতাম, রেজাল্ট আমার একটা দুর্বল দিক। তাই ল্যাব এক্সপেরিয়েন্স, ওয়ার্কশপ আর প্র্যাকটিক্যাল স্কিল বাড়ানোর দিকে বেশি নজর দিয়েছি।’
ইরাসমাস বৃত্তির জন্য প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরাসমাসের পেছনে আমাকে প্রচুর সময় দিতে হয়েছে। কোন প্রোগ্রাম আমার প্রোফাইলের সঙ্গে যায়, সেটা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া…ভীষণ সময়সাপেক্ষ। আমি মনে করি, কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করে, তার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রতিটা ধাপই ছিল একেকটা ধৈর্যের পরীক্ষা।’
তন্ময়ের মতে, গবেষণার প্রতি আগ্রহ, ল্যাবে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণই তাঁকে অন্যান্য আবেদনকারীদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন স্কলারশিপের কনফারমেশন লেটারটা পেলাম, প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। খুশিতে পরিবারকে খবরটা জানাতেও একটু সময় নিয়েছি।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কম সিজিপিএধারীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, ‘শুধু বইয়ের পড়াশোনা কখনোই যথেষ্ট নয়। আপনি যে বিষয়েই পড়ুন না কেন, মাঠপর্যায়ের বা বাস্তব অভিজ্ঞতা যত বেশি অর্জন করবেন, ততই আপনার দক্ষতা বাড়বে। প্রতিটি সাবজেক্টেরই নিজস্ব উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে, তাই কখনো মন ছোট করা যাবে না। লেগে থাকলে, পরিশ্রম করলে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।’
সিএ/এমআর


