বৃষ্টি মহান আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত। এর মাধ্যমে শুষ্ক ও প্রাণহীন ভূমি আবারও সজীব হয়ে ওঠে, প্রকৃতি ফিরে পায় নতুন প্রাণ। ইসলামে বৃষ্টিকে রহমতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই সময়কে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে তাঁর ক্ষমতা ও করুণার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুরা রুমের ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তাঁর (আল্লাহ) একটি নিদর্শন এই যে তিনি তোমাদেরকে দেখান বিজলী, ভয় ও আশা সঞ্চারকরূপে এবং আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অনন্তর তা দ্বারা শুষ্ক নির্জীব ভূমিকে সজীবতা দান করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।’
ইসলামি শিক্ষায় বৃষ্টির সময় কিছু বিশেষ আমলের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যা একজন মুমিনকে আল্লাহর আরও নৈকট্য লাভে সহায়তা করতে পারে।
প্রথমত, বৃষ্টি শুরু হলে আল্লাহর কাছে কল্যাণকর ও উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করা সুন্নত। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন বৃষ্টি হতো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআহ’, (অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি এ বৃষ্টিকে প্রবহমান এবং উপকারী করে দাও)। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৩)
দ্বিতীয়ত, অতিবৃষ্টি বা দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিলে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করা উচিত। রাসুল (সা.) অতিবৃষ্টির সময় দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা’ অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি বৃষ্টি আমাদের আশপাশে বর্ষণ করো, আমাদের ওপরে নয়। (নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৭)
তৃতীয়ত, বৃষ্টির পানি শরীরে স্পর্শ করা সুন্নত আমল হিসেবে বিবেচিত। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার বৃষ্টির সময় নবীজি তাঁর শরীরে বৃষ্টির পানি লাগতে দিয়েছিলেন এবং এর কারণ হিসেবে বলেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সদ্য আগত রহমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৬৮)
চতুর্থত, বৃষ্টির সময় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বৃষ্টির সময়ের দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে। মহানবী (সা.) বলেছেন, বৃষ্টির সময়ের দোয়া কবুল হয়ে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪০)
পঞ্চমত, বৃষ্টি শেষ হলে আল্লাহর শোকর আদায় করা এবং রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া পাঠ করা উত্তম। তিনি সাহাবিদের ‘মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহ’ দোয়া পাঠের প্রতি উৎসাহিত করেছেন, যার অর্থ আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৩৮)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, বৃষ্টির সময় মানুষ প্রকৃতির পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি মহান সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও করুণার কথাও স্মরণ করতে পারে। তাই এই সময়টিকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আত্মিক উন্নতির একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা উচিত।
সিএ/এমআর


