রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট সার্ভিস ব্যবহার করতে বাধ্য করার অভিযোগে একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের প্রধান ফটক ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর উত্তর ফতেহপুর এলাকার ওমেদ আলী (২৬), ধাপ কেল্লাবন্দ এলাকার রানা মিয়া (৩৪), কাউনিয়া উপজেলার রাজু মিয়া (৪০), বখতিয়ারপুর এলাকার বিপ্লব মিয়া (২৪), কদমতলা এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪২), চিকলী ভাটা এলাকার আরাফাত হোসেন আপলে (২২) এবং কেল্লাবন্দ এলাকার মারুফ হোসেন (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, রোগী বা তাদের স্বজনরা অন্য কোনো অ্যাম্বুল্যান্স নিতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হতো।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় এই হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো রোগীর আগমন ঘটে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল এলাকায় দালালি, চাঁদাবাজি এবং ভাড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চিকিৎসা সেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোগীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ যাতে ব্যবসা বা অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালি, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং জনভোগান্তি সৃষ্টিকারী যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে কেউ পার পাবে না।’
সিএ/এমই


