শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মাটির একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল বাড়ছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথের পাশে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং মাটিতে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে একাধিকবার পানি প্রয়োগের পরও পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে প্রথমে ওই স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম থাকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। সম্ভাব্য ঝুঁকির আশঙ্কায় অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করেছি। রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগজনিত কোনো সমস্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লিকেজ বা লাইনের কোনো সমস্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না এবং মাটির গভীর অংশ থেকেও তাপ অনুভূত হচ্ছে। বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দিয়েছেন।
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এ বি এম বাসার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল মাটির নিচে কোনো কারণে তাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটির উৎস ও কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হবে এবং বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
সিএ/এমই


