মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অংশগ্রহণকারী ও ভাষাসৈনিক আয়েশা আক্তার খাতুন, যিনি আয়েশা বেগম নামে পরিচিত ছিলেন, মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিভিন্ন স্থানে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ছোট ছেলের বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে। পরে সকাল ১০টায় বাসাবো কদমতলা জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের জামে মসজিদে তৃতীয় ও শেষ জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আয়েশা বেগম ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সময় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের কারণে তাকে এক মাস কারাবরণ করতে হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি মহা-হিসাবরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পরও বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
সিএ/এমই


