ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, এমন কোনো সফলতা সমাজের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না, যা একজন মানুষকে তার বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি মনে করেন, জীবনের প্রকৃত সাফল্য কেবল পেশাগত অর্জন বা সামাজিক অবস্থানে নয়, বরং মানবিকতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিহিত।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি সম্প্রতি আলোচিত এক বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাত-আটদিন আগে ময়লার ভাগাড়ের মতো এই ঘরে মরে পচে গেছেন এমন এক বৃদ্ধা, যার এক ছেলে বুয়েট-শিক্ষক, আরেক ছেলে যুগ্ম-সচিব, অন্য ছেলে কানাডা-প্রবাসী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এদেশের অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানকে কথিত সফলতার যে স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, বৃদ্ধার তিন ছেলেই জাগতিক সাফল্যের সেই স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করেছে।’
শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, বাহ্যিক সাফল্যের এই চিত্রের বিপরীতে রয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা। তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু মাঝখানে একটা ঈদ গেল, মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে থাকা সন্তানদের খোঁজ নেয়ার হয়তো সুযোগটুকুও ঘটেনি। একাকী ঘরের মধ্যে মরে শরীরের মাংস খসে খসে পড়েছে বৃদ্ধার।’
এ ঘটনার মাধ্যমে তিনি বর্তমান সমাজে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, শুধু বৈষয়িক অর্জনকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে পারিবারিক সম্পর্ক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলেই সমাজে বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি অবহেলা, একাকীত্ব ও অসহায়ত্বের মতো ঘটনা সামনে আসে।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে।’
সমাজ ও পরিবারকে মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।’
সিএ/এমআর


