জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নিমাইমারী থেকে মাখনের চর পর্যন্ত সংযোগ সড়কে জিঞ্জিরাম নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত তিন গ্রামের বাসিন্দারা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে এখনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চলাচলের বিকল্প না থাকায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। তবে নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, উত্তর-দক্ষিণমুখী ছোট এই জিঞ্জিরাম নদী বর্ষাকালে কানায় কানায় ভরে ওঠে। নদীর পূর্ব পাশে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বিজিবি টহল ক্যাম্প, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অপরদিকে পশ্চিম পাড়ের মানুষদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে এই পথ ব্যবহার করে। অনেক সময় ছোট ছোট শিশুরা সাঁকো পার হতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।’
নিমাইমারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তামিম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ভয় নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে যাই। বর্ষায় খুব কষ্ট হয় ব্রিজ ভেঙে যায় ভয়ে বাবা মা আসতে দেয়না। আমাদের মাদ্রাসার আমিসহ অনেকেই এই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছি কে দেখবে আমাদের এই দুঃখ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য জন্মেছি? কেন এত অবহেলা?’ তিনি জানান, রোগী পরিবহন কিংবা কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুই-ই বেড়ে যায়।
সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আমার জন্মের পর থেকেই এই ব্রীজ হবে হবে শুনছি আমি নিজেও তিন দিনের অফিসে গিয়ে আবেদন করেছি কিন্তু কেউ আমাদের দুঃখ দেখে না।’
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন দেওয়ানগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল হোসেন জানিয়েছেন, দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, আশ্বাস নয়, দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, নিমাইমারী মাদ্রাসা ঘাট এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।
সিএ/এমই


