দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে একটি বিরল ধূমকেতু, যা আবার পৃথিবীর আকাশে ফিরতে সময় নিতে পারে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধূমকেতু এখন খুব অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান রয়েছে। ফলে এবার দেখার সুযোগ হারালে পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও এটি অধরাই থেকে যাবে।
ধূমকেতুটির নাম ‘সি/২০২৫ আর৩ প্যানস্টারস’। প্রথমে এটি উত্তর গোলার্ধ দিয়ে অতিক্রম করলেও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এখন দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডভিত্তিক এক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের গবেষক জশ আওরাকি এ তথ্য জানিয়েছেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ধূমকেতুটি যথেষ্ট উজ্জ্বল হলেও খালি চোখে সহজে দেখা যাবে না। এটি দেখতে দূরবিন, টেলিস্কোপ কিংবা উন্নত ক্যামেরার সহায়তা প্রয়োজন হবে। তবে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ক্যামেরায় এর ছবি তুলনামূলক সহজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে এর উজ্জ্বলতা কমে যাবে। তাই অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত এটি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধূমকেতুটি দেখতে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের দিকে তাকাতে হবে। সূর্য ডোবার পরের প্রায় এক ঘণ্টা সময় এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যেতে পারে। এ সময় এটি আকাশের নিচু অংশে অবস্থান করবে।
আকাশে ধূমকেতুটিকে নীল-সবুজ আলোর একটি গোলার মতো দেখা যাবে। এর চারপাশে থাকবে গ্যাসের স্তর, যাকে ‘কোমা’ বলা হয়। পাশাপাশি ধোঁয়াটে আলোর রেখার মতো একটি লেজও দেখা যাবে।
জানা গেছে, এই ধূমকেতুর উৎপত্তি সৌরজগতের একেবারে প্রান্তে অবস্থিত ওর্ট মেঘ অঞ্চলে। বরফময় অসংখ্য বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত ওই অঞ্চল থেকেই এর যাত্রা শুরু হয়। ২০২৫ সালে প্রথম এটি শনাক্ত করা হয়।
এটি একটি দীর্ঘ-পর্যায়ের ধূমকেতু। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এর সময় লাগে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের কাছাকাছি আসার সময় ধূমকেতুর ভর কমে যাওয়ায় এর ভবিষ্যৎ গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। এমনও হতে পারে, এটি আর কখনো সৌরজগতে ফিরে না আসে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সিএ/এমআর


