নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানায় জব্দ করা ভারতীয় চোরাই পণ্য ছাড়তে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজড করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা বর্তমানে কলমাকান্দা থানায় কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার বিকেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে দুটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফা এবং এক চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মধ্যে কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন। জবাবে অপর ব্যক্তি বলেন, না ভাই, এর কম হবে না, তিন লাখ টাকা দেন। এতে আপনার উপকার হবে।
কথোপকথনের আরেক অংশে শোনা যায়, এক ব্যক্তি বলেন, এক লাখ টাকা দেব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন। জবাবে পুলিশ কর্মকর্তার কণ্ঠে বলা হয়, আপনি যা করার দ্রুত করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি, আপনার জন্য ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।
পরবর্তী অংশে কথিত ওই ব্যক্তি বলেন, ভবানীপুর ব্রিজ পার হয়ে রামপুর বন্দের আশপাশে থামবেন। কষ্ট করে হলেও দুই লাখ টাকা দেব, একটু সময় দেন। এ সময় কথিত পুলিশ কর্মকর্তার কণ্ঠে আরও শোনা যায়, হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ডাভ শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন কসমেটিকস পণ্য ছিল।
এ সময় পিকআপের চালক নাসিম ও সহকারী মনির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দাবি, জসিম উদ্দিনই এই চোরাচালানের মূল হোতা। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে জসিম উদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


