চাঁদে স্থায়ী বসতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে। নাসা ও স্পেসএক্স এখন আর শুধু চাঁদে অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের পরিকল্পনা করছে। সাম্প্রতিক ঘোষণায় নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের দিকেই চাঁদে মানব বসতি নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে।
এর আগে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কও আগামী এক দশকের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের বৈরী পরিবেশ এখনো মানুষের বসবাসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মাটিতে বিদ্যুতায়িত ধুলিকণা রয়েছে, যা যন্ত্রপাতি ও স্পেসস্যুটের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব ধুলা শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ বন্ধ করতে পারে এবং সৌর প্যানেলের কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় মহাজাগতিক বিকিরণের ঝুঁকিও অনেক বেশি। গবেষক ইমানুয়েল উরকিয়েটা বলেন, ‘মহাকাশের যেকোনো জায়গায় মহাজাগতিক বিকিরণ সব সময় থাকে এবং একে ঠেকানো অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন।’ এই বিকিরণ মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চাঁদে বাসস্থান নির্মাণও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা মাটির নিচে বসতি, গম্বুজ আকৃতির ঘর কিংবা থ্রিডি প্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, চাঁদের কম অভিকর্ষ মানবদেহে নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। হাড় ও পেশির ক্ষয়, রক্ত সঞ্চালনের ভারসাম্যহীনতা এবং চোখে চাপ বৃদ্ধি—এসব ঝুঁকি রয়েছে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষেত্রে।
তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আসন্ন আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। চাঁদের বরফ থেকেও পানি ও জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এখনো তা সরাসরি পরীক্ষিত হয়নি।
সব মিলিয়ে চাঁদে বসতি স্থাপন এখনো স্বপ্নের পর্যায়ে থাকলেও গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এই লক্ষ্যকে ধীরে ধীরে বাস্তবতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
সিএ/এমআর


