ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ ধরে চলা বিরোধ নিষ্পত্তির পর উভয়পক্ষ একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাধানগর কলেজপাড়া এলাকায় শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশান এবং প্রতিবেশী আল নাসিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও সম্প্রতি একটি আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হয়। গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষই নিজ নিজ বর্তমান অবস্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন।
চুক্তি অনুযায়ী, শ্মশান কর্তৃপক্ষ ও আল নাসির উভয় পক্ষই কিছু জমি দাবি থেকে সরে আসেন এবং পারস্পরিক ছাড়ের ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছান। এই সমঝোতার মুহূর্তে কোলাকুলি, হাত মেলানো, ফুল দিয়ে বরণ এবং মিষ্টিমুখ করানোর দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আখাউড়ার বিভিন্ন এলাকায় এমন সম্প্রীতির উদাহরণ নতুন নয়। কেন্দ্রীয় মন্দির ও মাদরাসা পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় ধর্মীয় সহাবস্থানের একটি বাস্তব চিত্র এখানে দেখা যায়। রমজান মাসে মাদরাসায় নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় কার্যক্রমও চলে, যা এলাকাবাসীর সহনশীলতার পরিচয় বহন করে।
এছাড়া পৌর এলাকার খড়মপুরে চৈত্র মাসে বারুণী স্নানের সময় তিতাস নদীতে স্নান শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শাহ সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রহ.)-এর মাজারে প্রার্থনা করেন। একই স্থানে দুই ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে।
স্থানীয়দের মতে, আখাউড়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকলেও কখনও কখনও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। বরং স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সবসময়ই সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।
বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়ায় উভয় পক্ষই স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সবাই মিলেমিশে বসবাস করে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই সহযোগিতা করে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দীপক কুমার ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে এবং এটি সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ বলেন, আখাউড়ায় ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ অত্যন্ত শক্তিশালী। সাম্প্রতিক সমাধান সেই ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিএ/এমই


