মে মাসের গরম ও কালবৈশাখীর মাঝেই বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য তৈরি হয়েছে এক বিশেষ পর্যবেক্ষণের সুযোগ। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ১৫ মে পর্যন্ত রাতের আকাশে দেখা মিলবে উল্কাপাতসহ গ্রহ–নক্ষত্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
এই সময় উত্তর গোলার্ধে পূর্ণিমাকে ‘ফ্লাওয়ার মুন’ বলা হয়। ১ মে থেকে শুরু হওয়া পূর্ণিমার প্রভাব ধীরে ধীরে কমে গিয়ে ১৫ মে নাগাদ চাঁদ কৃষ্ণপক্ষে প্রবেশ করবে। ফলে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আকাশ আরও অন্ধকার হয়ে উঠবে, যা নক্ষত্র দেখার জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে।
গ্রহগুলোর অবস্থানেও আসছে পরিবর্তন। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ এখনো উজ্জ্বল দেখা গেলেও ধীরে ধীরে দিগন্তের দিকে নেমে যাচ্ছে। অন্যদিকে মঙ্গল গ্রহ মিথুন রাশি অতিক্রম করে কর্কট রাশিতে প্রবেশ করছে এবং সন্ধ্যার আকাশে এর লালচে আভা সহজেই চেনা যায়।
ভোরের আকাশে শনি ও বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সূর্যোদয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্ব-দক্ষিণ আকাশে শনিকে দেখা যাবে এবং কিছু সময় পরই বৃহস্পতির উদয় ঘটবে। ১০ থেকে ১২ মের মধ্যে চাঁদকে শনির খুব কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা যেতে পারে।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহের অন্যতম আকর্ষণ অ্যাকুয়ারিড উল্কাপাত। ৫ ও ৬ মে দিবাগত রাতে এর সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখা যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০টি উল্কা দেখা যেতে পারে, যা শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত সময়।
নক্ষত্রমণ্ডলীর মধ্যেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ পশ্চিমে অস্তমুখী, আর মধ্য আকাশে লিও বা সিংহ রাশির আধিপত্য বাড়ছে। উজ্জ্বল নক্ষত্র রেগুলাস এখন আকাশে সহজেই শনাক্তযোগ্য। পাশাপাশি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও ধ্রুবতারাও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
তবে আবহাওয়ার কারণে আকাশ সবসময় পরিষ্কার নাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির পর আকাশ সবচেয়ে স্বচ্ছ থাকে, তাই সে সময় পর্যবেক্ষণ করা ভালো। ৮ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সময়টি অন্ধকার আকাশে গভীর মহাজাগতিক বস্তু দেখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
সূত্র: স্কাইম্যাপ অনলাইন, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি, নাসা
সিএ/এমআর


