রাজধানীতে সাংবাদিক ও গ্রাফিক ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করেছে। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর রাজধানীর নিজ বাসা থেকে স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এ গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে একদল কর্মী লিখিতভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে স্বর্ণময়ীও ছিলেন বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়টি পৃথকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সোমবার (৩ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম অপমৃত্যু মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রায় সাড়ে ছয় মাস তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি আদালত গ্রহণ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট, রক্তমাখা ব্লেড, ওড়না এবং একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। ডায়েরির লেখার ভিত্তিতে পুলিশ দাবি করে, পারিবারিক অভিমান ও ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই স্বর্ণময়ী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ময়নাতদন্ত ও আলামত পর্যালোচনায় আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ উত্থাপন করা হয়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, ১৪ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ১৯ এপ্রিল তা গ্রহণ করা হয়।
তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কর্মক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মক্ষেত্রের অনিয়ম ও মানসিক চাপের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি।
ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পূর্বে জানানো হয়, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে অসৌজন্যমূলক আচরণের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেটি অভ্যন্তরীণভাবে নিষ্পত্তি করা হয় বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর তদন্তের স্বচ্ছতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সিএ/এমই


